BTRC SIM Registration Check 2026 | সিম রেজিস্ট্রেশন কার নামে চেক করুন
বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল সিম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে আপনার ব্যবহৃত সিমটি কার নামে নিবন্ধিত বা আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে অন্য কেউ সিম চালাচ্ছে কি না, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি (BTRC) গ্রাহকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়াকড়ি নিয়ম আরোপ করেছে।
আপনার অজান্তেই যদি আপনার এনআইডি দিয়ে অন্য কেউ সিম তুলে কোনো অপরাধমূলক কাজ করে, তবে আইনগতভাবে আপনিই বিপদে পড়বেন। তাই ২০২৬ সালের সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী ঘরে বসেই খুব সহজে সিমের মালিকানা যাচাই করার পদ্ধতিগুলো আজ আমরা বিস্তারিত জানবো।
কেন NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে চেক করা জরুরি
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে জালিয়াতি অনেকটাই কমেছে। কিন্তু তারপরও সিম কেনার সময় ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা এনআইডি কপির অপব্যবহার করে অসাধু চক্র আপনার নামে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করে নিতে পারে।
আপনার নামে নিবন্ধিত কোনো সিম থেকে যদি প্রতারণা, চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো সাইবার অপরাধ সংঘটিত হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথমেই সিমের মালিক হিসেবে আপনাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনবে। তাই নিজের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত আপনার এনআইডি দিয়ে কয়টি সিম চলছে তা চেক করা উচিত। যেসব সিম আপনি ব্যবহার করছেন না, সেগুলো দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া একটি দায়িত্বশীল কাজ।
BTRC SIM Registration Check 2026
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে মোট কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে, তা জানার সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় উপায় হলো ইউএসএসডি (USSD) কোড ডায়াল করা। তবে মনে রাখবেন, শুধু কোড ডায়াল করলেই তথ্য পাওয়া যাবে না, এর জন্য আপনার এনআইডি কার্ডের শেষের ৪টি ডিজিট প্রয়োজন হবে। যেকোনো বাটন ফোন কিংবা স্মার্টফোন থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই কাজটি করা যায়।
নিচের ধাপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করে খুব সহজেই সিমের সংখ্যা ও নম্বর জেনে নিতে পারবেন:
- ধাপ ১: প্রথমে আপনার মোবাইলের ডায়াল প্যাডে গিয়ে *16001# কোডটি টাইপ করে ডায়াল করুন।
- ধাপ ২: ডায়াল করার পরপরই স্ক্রিনে একটি পপ-আপ মেসেজ আসবে, যেখানে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) শেষের ৪টি ডিজিট দিতে বলা হবে।
- ধাপ ৩: বক্সে আপনার এনআইডি কার্ডের শেষের ৪টি সংখ্যা সতর্কতার সাথে লিখে ‘Send’ বা ‘Reply’ বাটনে ক্লিক করুন।
- ধাপ ৪: এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার ফোনে ১৬০০১ নম্বর থেকে একটি ফিরতি এসএমএস আসবে।
- ফলাফল: এই মেসেজে আপনার ওই এনআইডি দিয়ে মোট কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে তা লেখা থাকবে। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে নম্বরগুলোর সম্পূর্ণ অংশ না দেখিয়ে শুধু প্রথম ৩টি এবং শেষের ৩টি ডিজিট (যেমন- 017*****123) দেওয়া থাকবে। এটি দেখেই আপনি বুঝতে পারবেন কোনটি আপনার পরিচিত নম্বর।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে এমন একটি সিম থেকে কোডটি ডায়াল করতে হবে, যেটি আপনার নিজের ওই এনআইডি দিয়েই রেজিস্ট্রেশন করা। অন্য কারও নামে নিবন্ধিত সিম থেকে আপনার এনআইডি নম্বর দিলে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে না।
সিম রেজিস্ট্রেশন কার নামে জানার উপায় ও অপারেটরভিত্তিক কোড
সব অপারেটরের জন্যই সাধারণ ডায়াল কোড *16001# কাজ করে। তবে গ্রামীণফোন ও টেলিটকের ক্ষেত্রে এসএমএস পাঠিয়েও তথ্য জানার একটি বিকল্প পদ্ধতি রয়েছে। নিচে দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটরগুলোর সিম রেজিস্ট্রেশন চেক করার মাধ্যমগুলো তুলে ধরা হলো:
| মোবাইল অপারেটর | চেক করার মাধ্যম | ডায়াল কোড বা এসএমএস ফরম্যাট |
| রবি (Robi) | ডায়াল কোড | ডায়াল করুন *16001# (এরপর NID এর শেষ ৪ ডিজিট দিন) |
| এয়ারটেল (Airtel) | ডায়াল কোড | ডায়াল করুন *16001# (এরপর NID এর শেষ ৪ ডিজিট দিন) |
| বাংলালিংক (Banglalink) | ডায়াল কোড | ডায়াল করুন *16001# (এরপর NID এর শেষ ৪ ডিজিট দিন) |
| গ্রামীণফোন (Grameenphone) | এসএমএস (SMS) | মেসেজ অপশনে info লিখে পাঠিয়ে দিন 4949 নম্বরে (ফিরতি মেসেজে নির্দেশনা অনুযায়ী NID এর শেষ ৪ ডিজিট দিতে হবে) |
| টেলিটক (Teletalk) | এসএমএস (SMS) | মেসেজ অপশনে info লিখে পাঠিয়ে দিন 1600 নম্বরে (ফিরতি মেসেজে নির্দেশনা অনুযায়ী NID এর শেষ ৪ ডিজিট দিতে হবে) |
সিম রেজিস্ট্রেশন চেক অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপ পদ্ধতি
ইউএসএসডি কোড বা এসএমএস ছাড়াও বর্তমান সময়ে মোবাইল অপারেটরগুলোর নিজস্ব অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই নিবন্ধিত সিমের তালিকা দেখা যায়। এটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক একটি আধুনিক পদ্ধতি।
মাই জিপি (MyGP) অ্যাপের মাধ্যমে:
আপনার ফোনে যদি মাই জিপি অ্যাপ লগইন করা থাকে, তবে মেনু থেকে ‘Services’ অপশনে যান। এরপর ‘SIMs You Own’ অপশনে ক্লিক করে আপনার এনআইডি কার্ডের শেষ ৪ ডিজিট দিয়ে কন্টিনিউ করলেই আপনার নামে নিবন্ধিত সিমের তালিকা ও নম্বরের প্রথম ও শেষের ডিজিটগুলো দেখতে পাবেন।
মাই রবি (My Robi) অ্যাপের মাধ্যমে:
রবি গ্রাহকরা মাই রবি অ্যাপে প্রবেশ করে ‘More’ বা মেনু অপশন থেকে ‘Your SIMs’ নির্বাচন করুন। সেখানে আপনার এনআইডি কার্ডের শেষের ৪টি সংখ্যা দিয়ে ‘View List’ বাটনে চাপ দিলেই আপনার নামে থাকা সব সিমের নম্বর (আংশিক ঢাকা অবস্থায়) দেখতে পাবেন।
বিটিআরসি এর নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ কয়টি সিম ব্যবহার করা যাবে
সরকারি সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (BTRC) সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন সাধারণ নাগরিক তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১০টি সিম রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এর মধ্যে প্রি-পেইড এবং পোস্ট-পেইড উভয় ধরনের সিমই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
যদি আপনার এনআইডি দিয়ে ইতিমধ্যে ১০টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা থাকে, তবে আপনি নতুন করে আর কোনো সিম কিনতে পারবেন না। অতিরিক্ত সিম কেনার চেষ্টা করলে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের সময় সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
জন্ম নিবন্ধন বা পাসপোর্ট দিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম
অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে এনআইডি কার্ড না থাকলে সিম কেনা যাবে কি না। হ্যাঁ, এনআইডি ছাড়াও পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে সিম কেনা যায়। তবে এক্ষেত্রে কিছু শর্ত প্রযোজ্য।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে এসে পাসপোর্ট দিয়ে সিম কিনলে সেটি সাধারণত ৬ মাসের জন্য সচল থাকে। ৬ মাস পর সিমটি স্থায়ীভাবে ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক রি-রেজিস্ট্রেশন বা পুনরায় নিবন্ধন করে নিতে হবে। অন্যথায় অপারেটর চাইলে যেকোনো সময় সিমের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।
অতিরিক্ত সিমের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম
সিম চেক করার পর যদি দেখেন যে আপনার তালিকায় এমন কোনো নম্বর আছে যেটি আপনি ব্যবহার করছেন না বা অচেনা মনে হচ্ছে (প্রথম ৩ ও শেষ ৩ ডিজিট দেখে), তবে দ্রুত সেই সিমের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা উচিত। সিম বাতিল বা ডি-রেজিস্ট্রেশন করার নিয়মটি বেশ সহজ।
সিমের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার জন্য আপনাকে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। সাথে অবশ্যই আপনার অরিজিনাল এনআইডি কার্ড এবং তার একটি ফটোকপি নিয়ে যাবেন। কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিকে সিমটি বন্ধ করার কারণ জানালে তারা আপনার আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন) নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেই সিমের মালিকানা আপনার নাম থেকে বাতিল করে দেবেন। এর জন্য কোনো প্রকার ফি প্রদান করতে হয় না।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
বাটন ফোন থেকে কি সিম রেজিস্ট্রেশন চেক করা যায়?
হ্যাঁ, বাটন ফোন থেকেও খুব সহজে সিম রেজিস্ট্রেশন চেক করা যায়। আপনার বাটন ফোন থেকে *16001# ডায়াল করুন। এরপর স্ক্রিনে আসা বক্সে আপনার এনআইডি কার্ডের শেষের ৪টি ডিজিট লিখে সেন্ড করুন। ফিরতি এসএমএসে আপনি সিমের সংখ্যা এবং নম্বরগুলোর প্রথম ৩টি ও শেষের ৩টি ডিজিট দেখতে পাবেন।
অন্যের এনআইডি দিয়ে সিম চালালে কী সমস্যা হতে পারে?
অন্যের এনআইডি দিয়ে সিম চালালে আপনি সিমটির প্রকৃত মালিক হিসেবে গণ্য হবেন না। সিমটি হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে আপনি সেটি আর তুলতে পারবেন না। এছাড়া ওই সিম দিয়ে কোনো অপরাধ হলে যার এনআইডি, তাকে আইনি ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে।
সিম রেজিস্ট্রেশন চেক করার জন্য কি কোনো টাকা কাটে?
না, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (BTRC) নিয়ম অনুযায়ী সিম রেজিস্ট্রেশন চেক করার জন্য কোনো চার্জ বা টাকা কাটা হয় না। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি একটি সার্ভিস।
আমার এনআইডি দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে তা কি অনলাইনে দেখা সম্ভব?
সরাসরি কোনো সরকারি ওয়েবসাইটে এনআইডি নম্বর দিয়ে সিমের তালিকা দেখার সুযোগ নেই নিরাপত্তার কারণে। তবে মাই জিপি বা মাই রবি-এর মতো অপারেটর অ্যাপগুলো ব্যবহার করে অনলাইনে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে আপনার নিবন্ধিত সিমের তালিকা দেখতে পারবেন।

